দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রাম শহর কিংবা গ্রামের সড়কে প্রায়ই চোখে পড়ে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। একটি হুইলচেয়ারে বসে আছেন এক নারী, আর সেটি ঠেলে নিয়ে চলেছেন তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় পড়ে তারা বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি, শুধু দু’মুঠো খাবারের জন্য।
ভূমিহীন এই দম্পতি আব্দুল আজিজ ও শাহিনা বেগম বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের ধরলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে অন্যের ঘরে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন। প্রতিদিন সকাল হলেই তারা বের হন রাস্তায়। হুইলচেয়ারটিই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। এটি নিয়েই দিনভর শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মানুষের কাছে সাহায্য চান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আব্দুল আজিজ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। ফলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই তাকে প্রতিদিন রাস্তায় বের হতে হয়। কেউ সহানুভূতি দেখিয়ে সাহায্যের হাত বাড়ালে সেদিন তাদের মুখে হাসি ফুটে। আর না পেলেও হতাশ না হয়ে এগিয়ে যান পরবর্তী মানুষের দিকে। এভাবেই চলছে তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম।
তাদের এই জীবনযুদ্ধ শুধু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নয়, বরং একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধেরও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিকূলতার মাঝেও তারা একসঙ্গে থেকে লড়ে যাচ্ছেন জীবন নামের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে।
আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে আবাসনের অন্যের ঘরে থাকি। আমার কোনো ভাতা বা ভিজিএফ কার্ডে নাম নেই। ভিক্ষা করে খাই। একদিন ভিক্ষা না করলে পেটে ভাত জোটে না। তিন সন্তানের মধ্যে দুইজনের বিয়ে হয়ে গেছে, আর এক সন্তান আমার সঙ্গে থাকে।’
তার স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী পঙ্গু। তাকে নিয়েই ভিক্ষা করে সংসার চালাই। আমাদের কোনো জমিজমা নেই। এখন যেখানে থাকি সেটাও অন্যের ঘর। যদি তারা বের করে দেয়, তাহলে কোথায় যাবো জানি না। স্বামীর পঙ্গু ভাতার জন্য অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো কিছু হয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘পরিবারটি খুবই অসহায় ও ভূমিহীন। তারা পৌর শহরের ভেলাকোপা এলাকার মানুষ। বর্তমানে আমাদের এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকে। সমাজের বিত্তবানরা যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়ত তারা একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারবে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শতভাগ ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ওই দম্পতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
/অ